নয়া জামানা:ইন্দোরের ব্যস্ত সারাফা বাজারে প্রতিদিন বল বিয়ারিং লাগানো লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে নীরবে ভিক্ষা করতেন এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। কাঁধে ব্যাগ, পায়ে জুতা কখনও কারও কাছে হাত পাততেন না, তবু সহানুভূতিবশত মানুষজন নিজে থেকেই টাকা দিত। এই ব্যক্তির নাম মঙ্গলিলাল। কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য এই তথাকথিত ভিক্ষুক আসলে একজন কোটিপতি।তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলিলালের মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। যানবাহনগুলো ভাড়ায় চালানো হয় যা থেকে নিয়মিত আয় হয়। তবে তার মূল আয়ের উৎস ছিল সুদের ব্যবসা। ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিতেন এবং প্রতিদিন নিজে গিয়ে সুদ আদায় করতেন। বর্তমানে তার দেওয়া ঋণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বলে অনুমান প্রশাসনের।নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের নোডাল কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। শুরুতে এটিকে সাধারণ উদ্ধার অভিযান মনে হলেও পরে সম্পত্তির খোঁজ মেলে। এমনকি প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরও পেয়েছিলেন যদিও আগে থেকেই তার একাধিক সম্পত্তি ছিল।
বর্তমানে মঙ্গলিলালকে উজ্জয়িনের একটি সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি ও ঋণ লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।