নয়া জামানা
নয়া জামানা ডেস্ক
পোলবারের বিরেন্দ্রনগর গ্রামের ধনঞ্জয় মিশ্রের গল্পটি শুনলেই বোঝা যায়-ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বাধা হতে পারে না।এক দুর্ঘটনার পর দুই হাত ব্যবহার করতে না পারলেও,এক হাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে জীবনের লড়াই জয় করেছেন তিনি।
২০১৫ সালে একদিন ধনঞ্জয়ের জীবন ধাক্কা খায়। বাইক চালানোর সময় হঠাৎ লরির সাথে ধাক্কা, ছিটকে পড়া এবং তার উপর দিয়ে চলে যায় চার চাকার গাড়ি।টানা ২০ দিন কোমায় থাকার পর হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসেন। কাঁধ, মাথা ও বাঁ হাতে গুরুতর চোট লাগে।বাঁহাত ভেঙে অকেজো,কাজের ক্ষমতা হারিয়েছেন।
কিন্তু ধনঞ্জয় হার মানেননি। ঈশ্বরের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং নিজের মনের শক্তিতে কিছুটা সুস্থ হয়ে ফেরেন সৃষ্টির পথে।এক হাতে দুর্গা তৈরি করা শুরু করেন-বাঁশ কাটা, কাঠামো তৈরি,খড় বাঁধা সবই নিজের নিপুণ হাতে। প্রতিমার মাটির স্পর্শে জীবনের ব্যথা যেন কমে যায়,মূর্তিগুলি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

শিল্পী জীবনের শুরু থেকেই মাটির সাথে বড় হয়েছেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে শুরু করেছিলেন মাটির কাজ।পাড়ার মৃৎশিল্পীদের কাছ থেকে শিখে নিজের হাতেই প্রতিমা তৈরি করতে শুরু করেন। দুর্গা ছাড়াও লক্ষ্মী,গণেশ, সরস্বতী, কালী, জগদ্ধাত্রী-সব প্রতিমা তাঁর সৃষ্টি। তবে এই বছর বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রতিমার মাটি ক্ষয় হচ্ছে তবু ধনঞ্জয় থেমে থাকছেন না।
২০০৩ সালে আর্ট কলেজ থেকে উত্তীর্ণ, বর্তমানে প্রায় ৬০ ছাত্র-ছাত্রীকে অঙ্কন শেখাচ্ছেন। স্ত্রী সুদীপ্তার সহযোগিতায় সংসারও সামলান। ধনঞ্জয় বলেন,বাঁ হাতের ৭০% কাজ হয় না। তবে মনের জোরে সব মূর্তি তৈরি করি। হারিনি, হারতেও চাই না।
ধনঞ্জয়ের জীবন আমাদের শেখায়-যদি মনের শক্তি থাকে, তবে কোনো দুর্ঘটনা, ব্যথা বা বাঁধাই আমাদের সৃষ্টি ও স্বপ্নকে থামাতে পারে না।এক হাতের প্রতিমা নয়, এক অটল ইচ্ছাশক্তি তার প্রকৃত বিস্ময়।