সপ্তপর্ণা দাস
নয়া জামানা,মালদহ
পৃথিবীর আলো-আঁধারে নারীশক্তির বন্দনা।মালদহের ইংরেজবাজার শহরের ২নং গভ: কলোনির পশ্চিম পার্ক সার্বজনীন বাঘাযতীন সংঘের এবারের দূর্গা পূজার থিম।পশ্চিম পার্ক সার্বজনীন বাঘাযতীন সংঘ বহুদিন ধরেই দুর্গোৎসবের জন্য মালদহ জেলায় পরিচিত।জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় এই পূজা বরাবরই ভিন্ন স্বাদের থিম ও শিল্পকলা দিয়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে আসছে।এবারে দুর্গাপূজা পদার্পণ করল ৬৭তম বর্ষে।আর এই বছরে তাদের থিম— পৃথিবীর আলো ও আঁধারে আমিই সেই মেয়ে।এই অনন্য থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে নারী জীবনের সংগ্রাম, যন্ত্রণা ও জয়গাথা।

সমাজের অত্যাচার, দুঃখ-কষ্টের মাঝেও নারী নিজের শক্তি ও সাহস দিয়ে বারবার উঠে দাঁড়ান— সেই শক্তিকেই এখানে রূপ দেওয়া হয়েছে।মৃৎশিল্পী অসীম মালাকার, মণ্ডপসজ্জায় টি আর মালাকার। দর্শনার্থীদের জন্য মনোমুগ্ধকর সাউন্ডের দায়িত্ব নিয়েছে বীণাপাণি ইলেকট্রনিক্স।নারী কেবল অত্যাচার সহ্যকারী নন তিনি হলেন শক্তির প্রতীক,যিনি ছাই থেকে নতুন জীবন নিয়ে ‘মা দুর্গা’ রূপে আবির্ভূত হন।এবারের থিম সেই প্রতীকী বার্তাই পৌঁছে দেবে।রথযাত্রার দিন খুঁটি পুজো ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

আসন্ন মহালয়ার দিন থাকছে বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান।দুর্গোৎসবের কয়টা দিন জুড়ে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মায়ের অন্নভোগ বিতরণ এবং বিশেষ সামাজিক কর্মসূচি।মণ্ডপের ভেতরে থাকছে একাধিক প্রতীকী মডেল, যার মধ্যে অন্যতম মৃত্যুর পর মানুষের শিল্পরূপ।দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করলেই অনুভব করবেন জীবনের আলো আঁধারের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। ক্লাব সম্পাদক অনিব্রত রায় জানিয়েছেন, এবারের দুর্গোৎসবের বাজেট প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। তবে তাদের বিশ্বাস,বাজেট নয়, শিল্পের গভীরতা ও ভাবনার অনন্যতাই দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যাবে। দুর্গাপূজার মরসুমে জেলার নানা পূজার ভিড়েও পশ্চিম পার্ক সার্বজনীন বাঘাযতীন সংঘের এই থিম যে আলাদা করে সকলের নজর কাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। নারীশক্তির লড়াই, যন্ত্রণা, পুনর্জন্ম এবং মাতৃত্বের চূড়ান্ত বিজয় সবকিছুই মিলেমিশে রূপ নেবে এবারের ‘আলো-আঁধারের শিল্পকল্পনায়’।