• Home /
  • উপ-সম্পাদকীয় /
  • নেই অমরত্বের লোভ জন্ম শতবর্ষের আলোকে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রাসঙ্গিকতা

নেই অমরত্বের লোভ জন্ম শতবর্ষের আলোকে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রাসঙ্গিকতা

সাহিত্য সমাজের দর্পণ। আর কবিতা হল মুখপাত্র। তাই সমকালীন সামাজিকতা, প্রতিকূলতা, জাতির চেতনা, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ ঘটে কবির কলমে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজের যথার্থ প্রতিফলন আমরা খুঁজে পাই কবি সুকান্তের রচনায়। কবি নিজেই যখন তাঁর পরিচয় দেন – “আমি এক দুর্ভিক্ষের....

নেই অমরত্বের লোভ জন্ম শতবর্ষের আলোকে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রাসঙ্গিকতা

সাহিত্য সমাজের দর্পণ। আর কবিতা হল মুখপাত্র। তাই সমকালীন সামাজিকতা, প্রতিকূলতা, জাতির চেতনা, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

Picture of অপূর্ব কুমার জানা

অপূর্ব কুমার জানা

নয়া জামানা

Picture of অপূর্ব কুমার জানা

অপূর্ব কুমার জানা

নয়া জামানা

সাহিত্য সমাজের দর্পণ। আর কবিতা হল মুখপাত্র। তাই সমকালীন সামাজিকতা, প্রতিকূলতা, জাতির চেতনা, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ ঘটে কবির কলমে। শ্রেণি বিভক্ত সমাজের যথার্থ প্রতিফলন আমরা খুঁজে পাই কবি সুকান্তের রচনায়। কবি নিজেই যখন তাঁর পরিচয় দেন – “আমি এক দুর্ভিক্ষের কবি, প্রত্যহ দুঃস্বপ্ন দেখি, মৃত্যুর সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। আমার বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়, আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়, আমার রোমাঞ্চ লাগে অযথা নিষ্ঠুর রক্তপাতে, আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃংখল দুই হাতে।” ( কবিতা : রবীন্দ্রনাথের প্রতি) সেই সমকালীন পরিস্থিতিতে পৃথিবী জুড়ে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণদামামা। অন্যদিকে দেশব্যাপী জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলন স্বতন্ত্রভাবে সারা ভারতবর্ষের বুকে নতুন উদ্যমে সঞ্চারিত করে তুলেছে মহাবিদ্রোহের সন্ধিক্ষণ। সবকিছু মিলিয়ে জনসাধারণের প্রাণ তখন ওষ্ঠাগত। এমন এক দুঃসহ পরিস্থিতিতে আগমন কবি সুকান্তের। সালটা ছিল ১৯২৬ আর দিনটা ছিল ১৫ আগস্ট। কলকাতার কালীঘাটের মহিম হালদার স্ট্রীটে মাতামহের বাড়িতে জন্ম এই অগ্নিপুত্রের। পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফরিদপুরের কোটালিপাড়ায়। কিন্তু ভাগ্যান্বেষণে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে কলকাতার বেলেঘাটা অঞ্চলে। পিতা নিবারণ চন্দ্র ভট্টাচার্য এবং মা সুনীতি দেবীর সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র। পিতার স্বল্প আয়ের কারণেই সম্ভবত বাড়িতে পড়েনি মা লক্ষ্মীর কৃপা। দীর্ঘসময়ের অসচ্ছলতার গ্লানি কাটাতেই একদিন তিনি হাতে তুলে নেন কলম। কিন্তু বাস্তব যেখানে অতি রূঢ়, কলম সেখানে দুঃসাহস দেখাতে পারে কি প্রণয় কাহিনী লেখার? তাইতো ব্যথিত হৃদয়ে তাঁর কলম শোনায় অন্তরের জ্বালা আর্তনাদ- কলম কবিতায় লিখলেন – “হে কলম! তুমি কত ইতিহাস গিয়েছ লিখে লিখে লিখে শুধু ছড়িয়ে দিয়েছে চতুর্দিকে। তবু ইতিহাস মূল্য দেবে না, কত লাঞ্ছনা, খাটুনি গিয়েছে লেখকের হাতে ঘুমহীন চোখে অবিশ্রান্ত অজস্র রাতে। তোমার গোপন অশ্রু তাইতো ফসল ফলায় বহু সাহিত্য বহু কাব্যের বুকের তলায়। ” বালক সুকান্ত ভর্তি হল বেলেঘাটার প্রাথমিক বিদ্যালয় কমলা বিদ্যামন্দিরে। পড়াশোনার পাশাপাশি মোটামুটি নয়-দশ বছর বয়স থেকেই কবিতা লেখার সূত্রপাত। সেই সময় প্রকাশ করলেন ‘সঞ্চয়’ নামে একটি হাতে লেখা পত্রিকা। ঐ সময় তাঁর লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ‘শিখা’ পত্রিকায়। ছাপার অক্ষরে প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘বিবেকানন্দের জীবনী’ প্রকাশিত হয়েছিল শিখা পত্রিকার পাতায়। সুকান্তের বয়স যখন মাত্র দশ-এগারো বছর, ‘রাখাল ছেলে’ নামক একটি রূপক গীতি চিত্র রচনা করলেন। এছাড়াও রচনা করেছিলেন ‘মধু মালতী’ ও ‘সূর্য প্রণাম’ নামে আরও দুটি গীতি চিত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে সুকান্ত ভর্তি হলেন বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুলে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় বন্ধু অরুণাচল বসুর সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশ করলেন হাতে লেখা পত্রিকা- ‘সপ্তমিকা’। যৌথ প্রচেষ্টার ফসল শিক্ষক নবদ্বীপচন্দ্র স্মৃতিকথন থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতা- ‘শতাব্দী’। বয়স তাঁর কাছে ছিল নিতান্তই একটি সংখ্যা মাত্র। কবির বয়স তখন বারো কি তেরো; সময়, প্রতিকূলতা এমনকি ভাবনার গণ্ডী পেরিয়ে তিনি হাত বাড়ালেন আঠারোর নিশানায়, লিখলেন- (কবিতা : আঠারো বছর বয়স) “আঠারো বছর বয়সের নেই ভয় পদাঘাতে ভাঙতে চায় পথের বাধা, এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয় – আঠারো বছর বয়স জানেনা কাঁদা। এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয় পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে, এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়- এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।” সুকান্ত ছিলেন মার্ক্সবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী। ১৯৪৪ সালে যোগ দিলেন সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে কমিউনিস্ট পার্টিতে। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই তরুণের হৃদয় তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি সমাজসেবামূলক কাজে নিযুক্ত হওয়া থেকে। তারই প্রতিফলন আমরা দেখি তাঁর” ছাড়পত্র “কবিতায়: “এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব – তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি – নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।” অন্যদিকে বামপন্থী পার্টির একজন সক্রিয় কর্মী হওয়ায় তিনি তখন তিনি বিক্রি করতেন পার্টির পত্র পত্রিকা। আর এই কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে চারপাশের মানুষের আরও অনেক আছে চলে আসেন তিনি বাড়লো জনসংযোগ। তখন পরাধীন ভারতবর্ষ। পরাধীন দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অপমান বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি “অনুভব ” কবিতায় লিখলেন – “অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি! জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি। অবাক পৃথিবী! আমরা যে পরাধীন এদেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম। অবাক পৃথিবী! সেলাম তোমাকে সেলাম!” শুধু যুদ্ধ নয়, মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ সরকারের ক্রমবর্ধমান অত্যাচার এবং তৎকালীন কিছু ধনী পুঁজিপতি জমিদারদের দ্বারা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ১৩৫০ বঙ্গাব্দের মন্বন্তরে। দুর্ভিক্ষ পীড়িত অগণিত বুভুক্ষু মানুষের হৃদয়বিদারক চিৎকারে সমব্যথী হয়ে অসহায় রূপকের আড়ালে কবি লিখলেন কবিতা : একটি মোরগের কাহিনী- “আশ্রয়ে যদিও মিলল, উপযুক্ত আহার মিলল না। সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে গলা ফাটাল সেই মোরগ ভোর থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত – তবুও সহানুভূতি জানালো না সেই বিরাট শক্ত ইমারত।” দুর্ভিক্ষের সঙ্গে যুক্ত হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়, বন্যা ও মহামারী। মানুষের মৃতদেহের মিছিলে মহানগরী পরিণত হল মহাশ্মশানে। অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক সেদিকে একবার ফিরেও তাকালো না। রাগে, দুঃখে, ঘৃণায় কবি রূপকের আড়ালে ব্যক্ত করলেন সেই কাহিনী সিঁড়ি কবিতার ছত্রে ছত্রে – “তোমরা আমাদের মাড়িয়ে প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও, তারপর ফিরে তাকাও না পিছনের দিকে; তোমাদের পদধূলিধন্য আমাদের বুক পদাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন। তোমরাও তো জানো, তাই কার্পেটে মুড়ে রাখতে চাও আমাদের বুকের ক্ষত, ঢেকে রাখতে চাও তোমাদের অত্যাচারের চিহ্নকে আর চেপে রাখতে চাও আমাদের বুকের ক্ষত, ঢেকে রাখতে চাও পৃথিবীর কাছে তোমাদের গর্বোদ্বত, অত্যাচারী পদধ্বনি দুর্ভিক্ষের সময় মজুতদারের কালোবাজারি দেশীয় পুঁজিপতি জমিদারদের শোষণ একসময় ধৈর্য্যের সব বাঁধ ভেঙে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কবির কলমে অগ্নুৎপাত ঘটলো কবিতায় – “শোন্‌ রে মালিক, শোন্‌ রে মজুতদার তোদের প্রাসাদে জমা হলো কত মৃত মানুষের হাড় – হিসাব কি দিবি তার?… …আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবই।” হাজার প্রতিকূলতার মাঝেও কবি আশাবাদী। তাই তো কবির কবিতায় অঙ্কুরিত বীজ ও আগামীতে বনস্পতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। শোষণ মুক্ত সাম্যবাদী সমাজ। তাই লিখলেন “আগামী” কবিতায় – “জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ, আমিতো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ; আজ শুধু অঙ্কুরিত, জানি কাল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা উদ্দাম হাওয়ার তালে তাল রেখে নেড়ে যাবে মাথা; তারপর দীপ্ত শাখা মেলে দেবো সবার সম্মুখে, ফোটাবো বিস্মিত ফুল প্রতিবেশী গাছেদের মুখে। ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই – জানি আমি ভাবি বনস্পতি, বৃষ্টির পরাধীন ভারতের দুঃখ, দুর্দশা আর অত্যাচারের কাহিনী জর্জরিত তাঁর ক্ষুদ্র জীবন কাহিনী। স্বাধীনতার সূর্যোদয় দেখার সুদিন কখনো আসেনি তাঁর। তবুও বুক ভরা আ, মাটির রসে পাই আমি তারি তো সম্মতি।” একদিকে কবি অত্যন্ত আশাবাদী, আবার অন্যদিকে দুর্জেয় কবি হার মেনেছেন কঠিন বাস্তবতার সামনে। দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের অন্বেষণে কখন হারিয়ে গেছে তার কাব্যিক মানসিকতা! যে চাঁদ আর জোৎস্নাকে ঘিরে কত কবির কত কবিতা আর রোমান্টিকতার সৃষ্টি; সেই চাঁদকে শেষমেষ রূঢ় বাস্তবের প্রেক্ষাপটে কবিতায় কবি ধরলেন সমকালকে অপ্রাপ্ত ক্ষুধানিবারক এক টুকরো ঝলসানো রুটি রূপে – “প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা – কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী- গদ্যময় : পূর্ণিমা- চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।” একদিকে সহজাত কবিসত্তার অধিকারী আর অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে অবিচল বিশ্বাসী কমিউনিস্ট আন্দোলনের অসহনীয় পরিশ্রম থাবা বসায় শরীরে ও ব্যক্তিজীবনে। ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে থাকে তাঁর শরীর। প্রথমে ম্যালেরিয়া এবং তারপর আবার মারণ ব্যাধি যক্ষ্মা বাসা বাঁধে শরীরে। এক নিষ্ঠুর বাস্তবের করালগ্রাস এই অদমনীয় দরিদ্র কবিকে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেই দেয় জীবনের শেষ সীমানায়। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র একুশ বছর বয়সে বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পড়লো খসে। কেউ কেউ তাঁকে ‘কিশোর কবি’ অভিধায় ভূষিত করলেও সুকান্ত ভট্টাচার্য এর কবিতা সমকালীন সময়ের প্রাসঙ্গিকতা ছাপিয়ে বলিষ্ঠতার নিরিখে কালোত্তীর্ণ। তাঁর প্রতিটি রচনা মস্তিষ্কের ক্ষুরধার মিশ্রিত। দুঃখের বিষয়, প্রকাশিত কোনো কাব্য দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। তাই সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু তাঁর সম্পর্কে বলেছেন “কবি হওয়ার জন্যেই জন্মেছিল সুকান্ত। কবি হতে পারার আগেই মরলো সে। দ্বিগুণ দুঃখ হয় তার জন্য।” পরাধীন ভারতের দুঃখ, দুর্দশা আর অত্যাচারের কাহিনী জর্জরিত কবির ক্ষুদ্র জীবন কাহিনী। স্বাধীনতার সূর্যোদয় দেখার সুদিন আসেনি জীবনে।তবুও বুক ভরা আশা। আর দুচোখে সুস্থ সবলভাবে বাঁচার আকুতিভরা স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের ঠিকানা কবি রেখে গেছেন স্বাধীন ভারতের, মুক্ত স্বদেশের মাটিতে। তাই কবি “ঠিকানা” কবিতায় লিখলেন – “বন্ধু আজকে বিদায়! দেখছ উঠল যে হাওয়া ঝোড়ো, ঠিকানা রইল, এবার মুক্ত স্বদেশেই দেখা করো।” আজ জন্মশতবর্ষে পা রেখে কবি সুকান্ত যেন একথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে, অমরত্বের দাবী করা কিংবা কবিতার শৌখিন মজদুরি তাঁর পথ নয়। কবিতাকে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সময়ের ধারাভাষ্য হিসাবে। এ কাজে তিনি যে পুরোপুরি সফল শতবর্ষ পরে আলাদা করে সে কথা কাউকে স্মরণ করাতে হয় না। বাংলার শত সহস্র সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে লেখা আছে কবি সুকান্তের ঠিকানা। এখানেই তাঁর সার্থকতা। তিনিই দেখিয়েছেন সাহিত্য সৃষ্টি হোক সমাজের প্রতিটি স্তরে সমাজ পরিবর্তনের দিশারীরূপে। শিল্প সাহিত্য সৃষ্টি তো শোষণ বঞ্চনাহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে। তিনি তো ‘জনতার কবি’। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কমিউনিষ্ট মতাদর্শের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কেবল একটি কিশোর কবির জীবনগাথা নয়, এটি ভাবলে আমাদের ভূল হবে। তাঁর ভাবনা ও আদর্শ বাংলা সাহিত্য- সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে দেখিয়েছেন, কবিতা হতে পারে সংগ্রামের অন্যতম হাতিয়ার, রাজনৈতিক সদভাবনা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ছিল শোষণমুক্ত, শ্রেণিহীন সমাজ গঠন; যার জন্য তিনি সাহিত্য, শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে করেছিলেন একত্রীভূত। মাত্র কুড়ি বছরের জীবনে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, সেটি প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাহিত্য প্রতিভার মিলনই কেবলমাত্র সভ্যতার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। একথা অনস্বীকার্য, অমরত্বের লোভ একেবারেই ছিল না, কিন্তু সাধারণ খেটে খাওয়া গরীব কৃষক মজুর শ্রমিক অর্থাৎ প্রলেতারিয়েত অংশের দুঃখ কষ্ট অনুভব তাঁর মতো করে কেউ পারেনি। আর এখানেই তিনি অমর।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর