• Home /
  • বিনোদন /
  • গ্ল্যামার থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র, জানুন বলিউডের এই নায়িকার সাতকাহন

গ্ল্যামার থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র, জানুন বলিউডের এই নায়িকার সাতকাহন

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় এমন অনেক নাম আছে, যারা একসময় দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন কিন্তু সময়ের স্রোতে মিলিয়ে গেছেন অচেনা অন্ধকারে। আজকের গল্প তেমনই এক অভিনেত্রীর যিনি একসময় ছিলেন বলিউডের উদীয়মান তারকা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন।একসময়ের সেই গ্ল্যামার গার্ল....

গ্ল্যামার থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র, জানুন বলিউডের এই নায়িকার সাতকাহন

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় এমন অনেক নাম আছে, যারা একসময় দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন কিন্তু সময়ের স্রোতে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

Picture of সুস্মিতা মজুমদার

সুস্মিতা মজুমদার

নয়া জামানা

Picture of সুস্মিতা মজুমদার

সুস্মিতা মজুমদার

নয়া জামানা

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় এমন অনেক নাম আছে, যারা একসময় দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন কিন্তু সময়ের স্রোতে মিলিয়ে গেছেন অচেনা অন্ধকারে। আজকের গল্প তেমনই এক অভিনেত্রীর যিনি একসময় ছিলেন বলিউডের উদীয়মান তারকা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন।একসময়ের সেই গ্ল্যামার গার্ল আজকে অন্য পরিচয়ে ফিরে এসেছেন—সফল ব্যবসায়ী ও পেশাদার জ্যোতিষী হিসেবে। তিনি হলেন টিউলিপ জোশি। মুম্বাই থেকে বলিউডে পদার্পণ ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বাইয়ে জন্ম টিউলিপ জোশির। তাঁর বাবা গুজরাটি, মা আর্মেনিয়ান বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই টিউলিপ ছিলেন অন্যরকম মনের মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং এবং গ্ল্যামার দুনিয়ার প্রতি তাঁর টান ছিল প্রবল।

২০০০ সালে তিনি অংশ নেন বিখ্যাত ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায়। সেখান থেকেই নজরে আসেন নির্মাতা ও প্রযোজকদের। প্রতিযোগিতা জেতা না হলেও তাঁর সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি উপস্থিতি তাঁকে পৌঁছে দেয় মডেলিং দুনিয়ায়। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। যশরাজ ফিল্মসের হাত ধরে বলিউডে অভিষেক ২০০২ সালে যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারে মুক্তি পায় ‘মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়’। এই ছবিতেই বলিউডে তাঁর অভিষেক ঘটে।

ছবিতে নায়ক হিসেবে ছিলেন উদয় চোপড়া ও জিমি শেরগিল। টিউলিপ জোশি নায়িকা হয়ে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায়। গানগুলো সুপারহিট হয়। টিউলিপের সৌন্দর্য, মিষ্টি হাসি আর পর্দায় স্বাভাবিক অভিনয় তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। তখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন—এটাই হয়তো বলিউডের নতুন নায়িকার স্থায়ী সূচনা। সাফল্যের পর ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া কিন্তু ভাগ্য সবসময় হাত ধরে না। প্রথম ছবির সাফল্যের পর তিনি যেসব ছবিতে অভিনয় করলেন সেগুলো একে একে বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল। ‘দিল মাঙ্গে মোরে’ – শাহিদ কাপুরের সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করলেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হন। ‘মাতৃভূমি’ – সাহসী কনসেপ্টের এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেলেও বাণিজ্যিক সাফল্য আসেনি। ‘জয় হো’ – সালমান খানের এই ছবিতে ছোট চরিত্রে দেখা গেলেও সেটি তাঁর শেষ বড় পর্দার কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বলিউডে টিকে থাকা সহজ নয়। একের পর এক ছবি ফ্লপ হওয়ায় প্রযোজক-পরিচালকরা ধীরে ধীরে তাঁকে এড়িয়ে যেতে থাকেন।

দক্ষিণি সিনেমায় ভাগ্য পরীক্ষা হাল ছাড়েননি টিউলিপ। বলিউডে যখন দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে তিনি নতুন দিগন্ত খুঁজে নিলেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায়। কন্নড়, পাঞ্জাবি, তেলেগু, মালয়ালম—সব ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অনেক ছবিতে গ্ল্যামারাস লুক, আবার কিছু ছবিতে গম্ভীর চরিত্রে ধরা দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও তিনি বড় কোনো সাফল্য পাননি। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার ব্যর্থ হলেন ? অনেক সমালোচক বলেন, তিনি সঠিক ছবির স্ক্রিপ্ট বেছে নিতে পারেননি। আবার কারও মতে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র ছিল যে নতুনদের জায়গা করে নেওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ভালোবাসা বিয়ে আর নতুন জীবন পর্দায় সাফল্য না পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে টিউলিপ খুঁজে নেন সুখের ঠিকানা। তিনি বিয়ে করেন ক্যাপ্টেন বিনোদ নায়ারকে।

বিনোদ নায়ার ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৯তম ব্যাটালিয়নের কমিশনড অফিসার (১৯৮৯–১৯৯৬)। পরবর্তীতে তিনি লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস ‘প্রাইড অব লায়নস’ পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল। টিউলিপ ও বিনোদ মিলে গড়ে তোলেন এক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। ব্যবসার জগতে তাঁরা ধীরে ধীরে সফল হয়ে ওঠেন। পর্দা থেকে আকাশের তারা—জ্যোতিষশাস্ত্রে নতুন পথচলা অভিনয়ের আলো ঝলমলে দুনিয়া থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দূরে আছেন টিউলিপ জোশি। কিন্তু তিনি কখনও থেমে যাননি।

নিজের ভেতরের খোঁজ থেকে আবিষ্কার করেছেন নতুন এক আগ্রহ—জ্যোতিষশাস্ত্র। আজ তিনি কেবল ব্যবসায়ীই নন,একজন পেশাদার জ্যোতিষীও। তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে যে তিনি বহু বছর ধরে বৈদিক জ্যোতিষ ও লাইফস্টাইল কনসালটেশনে কাজ করছেন। মানুষের জীবন, ভাগ্য, কর্ম আর জ্যোতিষশাস্ত্রের যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন ব্যবসায়ী, তরুণ-তরুণী, এমনকি বিনোদন জগতের অনেক মানুষও। বলিউডের এক ভুলে যাওয়া নাম, তবুও অনন্য এক যাত্রা টিউলিপ জোশির গল্পটা আসলে ব্যর্থতা নয় বরং রঙিন অভিজ্ঞতায় ভরা এক যাত্রা।

প্রথম ছবিতেই সুপারহিট হয়ে বলিউডে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েও দক্ষিণের সিনেমায় চেষ্টা করেছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার। ব্যক্তিগত জীবনে খুঁজে নিয়েছেন ভালোবাসা ও পরিবার। ব্যবসা ও জ্যোতিষশাস্ত্রে আজ তিনি সফল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্ল্যামার পেরিয়ে তিনি এক নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন। উপসংহার বলিউডে অনেক নায়িকার নাম আসে আবার হারিয়েও যায়। টিউলিপ জোশি হয়তো অভিনয়ে বড় সাফল্য পাননি কিন্তু তিনি হার মানেননি। আজ তিনি সফল ব্যবসায়ী, সম্মানিত জ্যোতিষী এবং একজন অনুপ্রেরণার নাম। জীবনের মঞ্চে সবসময় আলোয় থাকা যায় না—কখনও অন্ধকারও গ্রহণ করতে হয়। আর সেই অন্ধকারেই খুঁজে নিতে হয় নতুন আলো। টিউলিপ জোশির গল্প আমাদের শেখায় ব্যর্থতাও হতে পারে নতুন পথের সূচনা।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর